কুড়িগ্রামে বাড়ছে নদনদী পানি তিস্তায় দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন
- আপডেট সময় : ০৯:০৯:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৩ ৯১ বার পড়া হয়েছে
কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা: কুড়িগ্রামে বৃষ্টি না থাকলেও উজানের ঢলে সবক’টি নদীর পানি গত দু’দিন হতে আবারো দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সাথে তিস্তানদীর ভাঙ্গনের তীব্রতায় দিশেহারা হয়ে পরেছে তীরবর্তী মানুষ। তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার দশমিক ২৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। আজ দুপুর পর্যন্ত মাএ ১মিটার কমে ২২ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলা নদীর পানি দশমিক ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি দশমিক ৩৫ সেন্টিমিটার, এবং চিলমারী ২৭ পয়েন্টে দুধকুমার নদের পানি বিপদসীমার দশমিক ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলার উলিপুর উপজেলার তিস্তা নদীবেষ্টিত থেতরাই, দলদলিয়া, ইউনিয়নের গোড়াইপিয়ার লালমসজিদ, অর্জুন ঠুটাপাইকর সহ আসে পাশের এলাকা ভাঙন কবলিত। এসব এলাকায় দেথা দিয়েছে তীব্র নদীভাঙন। নদী ভাঙ্গা লোকজন সহায়সম্বল হারিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছে। খুঁজছে মাথা গোঁজার ঠাই। একেরপর এক বসতবাড়ি আবাদি জমি, গাছ বাস নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। যেন দেখার কেউ নেই।
গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও উজান ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে নদীভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে উপজেলার তিস্তা নদীবেষ্টিত দলদলিয়া ও থেতরাই ইউনিয়নের জুয়ানসতরা, গোড়াইপিয়ার, অর্জুন, লালমসজিদ, ভেন্ডার পাড়া, কুমার পাড়া, ফকির পাড়া ও শেখের খামার এলাকার ভাঙনকবলিত মানুষ। এসব এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। নিরুপায় হয়ে অন্যের জায়গায় অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন। তিস্তাপাড়ের মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন দিনের পর দিন।
এদিকে উপজেলার গোড়াইপিয়ার, কুমার পাড়া ও ফকির পাড়া এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক দিনের নতুন করে নদীভাঙনে একরের পর একর আবাদি জমি ও বসতবাড়ি এবং বড় বড় গাছ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
এলাকার লোকজন জানান, গোড়াইপিয়ারে যেভাবে নদীভাঙন শুরু হয়েছে অতিদ্রুত ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নিলে এ এলাকার ৪টি গ্রামের ৫ থেকে ৬০০ পরিবার অসহায় হয়ে যাবে। হুমকির মুখে পড়া গ্রামগুলোর মধ্যে মগাপাড়া, ঝাজুয়াপাড়া, ফকিরপাড়া, কানিপাড়া, ভেন্ডারপাড়া, কুমারপাড়া ও পাকারমাথা। এ ছাড়াও গোড়াই পিয়ার দাখিল মাদরাসা, গোড়াই পিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হোকডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হোকডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়, দক্ষিণ চর হোকডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২টি ওয়ার্ড ক্লিনিক, ৪টি মসজিদ, ২টি মন্দিরসহ উক্ত গ্রামগুলোর কয়েক হাজার পরিবার।
তিস্তার পারের ভাঙন কবলিত এলাকার লোকজন জানায়, আমরা কোনো সাহায্য চাই না, চাই পরিকল্পিত নদী সংস্কার। ভাঙন এলাকাগুলোতে জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙনরোধ করার জোর দাবি জানান তারা।
দলদলিয়ার আদম আলী জানান, আমরা সব হারিয়ে পথে বসে দাবি করছি দ্রুত তিস্তা প্রকল্পের বাস্তবায়ন।
থেতরাই ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা বলেন, তিস্তার ভাঙনে আমার এলাকার কয়েকটি জাগায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা করছি। পাউবোর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
এদিকে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার দুটি ইউনিয়নে দীর্ঘদিন নদীশাসনের অভাবে অসহায় মানুষ নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় তিস্তা নদীর সঙ্গে সংগ্রাম করছেন তবুও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। প্রতিনিয়ত নদী তার রূপ পরিবর্তন করে তার ভাঙন অব্যাহত রেখেছে। তিস্তা পাড়ের মানুষজন নিজের শেষ সম্বল ভিটেটুকু রক্ষার জন্য চেষ্টা করছেন।
ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নে গতিয়াশাম, বরদারগা, বুড়িরহাট ক্রোসবাধ, খিতাবখাঁ সরকারি প্রাইমারি স্কুল, কমিউনিটি ক্লিনিক বাজার কোনোটাই যেন রক্ষা হচ্ছে না। এদিকে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে রামহরি, মৌলভীপাড়া, ডাংরারহাট, গাবুর হেলানসহ বিভিন্ন এলাকা আজ তিস্তার ভাঙনে হুমকির মুখে।
বুড়িরহাটে ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের স্পারটির অর্ধেক ভেঙে যাওয়ায় তিস্তাপাড়ের মানুষের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় মিনিটের দিকে আরসিসি স্পারটির ৩০ মিটার পানির তীব্র স্রোতে দেবে গেছে।
ইউনিয়নে প্রায় দেড় হাজার পরিবার নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা এবং এরই মধ্যে স্পারটি ভাঙনের ফলে বাড়ছে পানি, রুদ্ররূপে তিস্তা, আতঙ্ক বিরাজ করছে চরাঞ্চলে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগের মাধ্যমে চেষ্টা করছেন স্পারটির শেষ রক্ষা করার জন্য।
বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের গাবুর হেলান এলাকার আলিম উদ্দীন বলেন, স্পারটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে দুশ্চিন্তায় ঘুম আসেনা। দ্রুত এটি মেরামত করা না হলে এই এলাকাটি তিস্তার ভাঙনে বিলীন হয়ে যাবে।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নদীভাঙন এলাকায় আমরা জিওব্যাগ ফেলে এবং প্রয়োজনীয় মালামালসহ সার্বক্ষণিক নদীভাঙন রোধে কাজ করে যাচ্ছি।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. সাইদুল আরিফ জানান, নদীভাঙন রোধে প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত আছে। এছারা ভাঙন ও বন্যা কবলিত এলাকা সার্বক্ষণিক মনিটরিং এর আওতাভুক্ত আছে।