সংবাদ শিরোনাম ::
শাহজাদপুরে আওয়ামীলীগের সাবেক দুই এমপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা বেলকুচিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ  শাহজাদপুরে অটোবাইক ছিনতাই চক্রের ৬ জন আটক ৭ নভেম্বর না আসলে বাংলাদেশ বিলীন হয়ে যেত: বাউবি উপাচার্য বেলকুচির সেন ভাঙ্গাবাড়ী বাজার মসজিদের নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন “জয় বাংলা” স্লোগান দেওয়ায় সাবেক পিপি-কে গণপিটুনি, পুলিশে সোপর্দ উলিপুরে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ভোট কেন্দ্র মেরামতের টাকা আত্নসাতের অভিযোগ খাজা শাহ্ এনায়েতপুরী (রহ:) এর ১১০ তম ওরছ শরীফের দাওয়াত পত্র বিতরণ  রাজশাহীর মাঠে স্পীড স্কেটিংয়ে বগুড়ার স্কেটারদের ৩টি স্বর্ণপদক সহ ৮ পদক অর্জন এনায়েতপুরে ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি উপলক্ষে আলোচনা সভা

মানিকছড়ির ডিসিপার্ক এখন ভ্রমনের স্পষ্ট 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৬:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ৫৮ বার পড়া হয়েছে

খাগড়াছড়ি সংবাদদাতা: খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার বাটনাতলী ইউনিয়নের ডিসি পার্ককে ঘিরে প্রকৃতিবান্ধব পযটনের সূচনা করেছে জেলা প্রশাসন। প্রায় ১৬০ একর এলাকা বেদখলমুক্ত করে পার্কটি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রকৃতিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

ডিসি পার্কে ২২টি টিলা ও তিনটি সুবিশাল হ্রদ পর্যটকদের মনের তৃষ্ণা মেটাবে। টিলা-হ্রদবেষ্টিত জায়গাটিতে রয়েছে রাবারের বিশাল বাগান, আম-জাম-লিচু প্রভৃতি নানান প্রজাতির উদ্ভিদ।

এখানে ভোরে এবং সন্ধ্যায় খুব সহজেই চোখে পড়ে বানরের দল, বনমোরগ। কিছুক্ষণ পরপর ডেকে উঠে, মথুরার মতো বর্ণিল পালকের পাখিসহ নানান জাতের টিয়া, শালিক, চড়ুই। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই জায়গায় রয়েছে মুগ্ধতা ছড়ানোর নানান উপাদান।

স্থানীয় সংস্কৃতি ও প্রকৃতিকে ধারণ করে নির্মাণ করা হয়েছে ট্যুরিস্ট সেন্টার ও ওয়াশ ব্লক। হ্রদের পানিতে ঘোরার জন্য নৌকা ছাড়াও পার্কের ভেতরে তাবু বাসের সুযোগও রয়েছে। নিসর্গপ্রেমীরা এখানে রাতও কাটাতে পারবেন। তাবু বাসের পাশাপাশি অরণ্য কুটির রিসোর্টেও রাত কাটানো যাবে।

পার্কের গোধূলি পয়েন্টে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্তের দৃশ্যপট দেখে মুগ্ধ হবে যে কেউ। এরই মধ্যে মানিকছড়ি ডিসি পার্কের ২০ একর জায়গাকে ‘পাখির অভয়ারণ্য’ ঘোষণা করা হয়েছে। পাখিবান্ধব গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।

এসব কারণে মানিকছড়ি ডিসি পার্ক পরিণত হয়েছে পর্যটকদের আকর্ষণে।

গত শুক্রবার ডিসি পার্কে গিয়ে দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক মানুষ বেড়াতে এসেছেন। তারা ঘুরে ঘুরে উপভোগ করছেন এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। স্মৃতি ধরে রাখতে স্বজন, বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে তুলছেন ছবি বা সেলফি।

চট্টগ্রাম থেকে সপরিবারে ডিসি পার্কে বেড়াতে এসেছেন প্রবাসী মঈন উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এখানে বেড়াতে এসে চমৎকার লাগছে। পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছি।’

কলেজছাত্র ইকবাল হোসেন বলেন, ‘এই প্রথম এখানে এসেছি। খুব ভালো লাগছে। পাহাড় আর বিভিন্ন প্রজাতির গাছ দেখে নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করছি।’

ডিসি পার্কে দেখা গেল, পাখিবান্ধব গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, পার্কের ভেতরে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠা বন্যপ্রাণী ও পাখিদের নিরাপত্তা দিতে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটিই জেলার প্রথম পাখির অভয়ারণ্য।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিসি পার্কে পরিকল্পিত উপায়ে লাগানো হচ্ছে প্রায় ১০০ প্রজাতির ২৫ হাজার গাছের চারা। ফলদ, বনজ, শোভাবর্ধক, ঔষধি ও বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ প্রজাতির চারা জোগাড় করা হয়েছে দেশের নানান প্রান্ত থেকে। ইতোমধ্যে ১০ হাজারের বেশি গাছের চারা লাগানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

পার্কে রোপন করা ফলদ গাছের মধ্যে কাগজি লেবু, জাম, পেয়ারা, কাঠাল, জলপাই, মাল্টা, জাম্বুরা, আমড়া, কদবেল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া, পাখির অভয়ারণ্যকে মাথায় রেখে রোপণ করা হচ্ছে ডেউয়া, ডুমুর, গাব, করমচা, লটকন, কামরাঙা প্রভৃতি; এই ফল গাছগুলো পাখিদের খুব পছন্দের বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

বনজ গাছের মধ্যে রয়েছে গর্জন, চিকরাশি, চাপালিশ, কাঠবাদাম প্রভৃতি। এখানে পরিকল্পিত উপায়ে লাগানো হচ্ছে কৃষ্ণচুড়া, রাধাচূড়া, জারুল, জাকারান্ডা, সোনালু, কাঞ্চন ও কদম গাছের মতো নানান শোভাবর্ধক গাছের চারা।

ডিসি পার্কে গড়ে তোলা হয়েছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম ‘ঔষধি টিলা’। এখানে দুর্লভ প্রায় ২০ প্রজাতির ঔষধি গাছ লাগানো হচ্ছে, যার মধ্যে অন্যতম- অর্জুন, আমলকি, বহেরা, হরিতকি, নিম, অশোক প্রভৃতি।

এছাড়া, প্রায় ৫ একর জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদের একটি জোন; যেখানে থাকছে রিটা, উরি আম, তমাল, কর্পুর, মান্দার, লোহা কাঠ, ওরা বাঁশ, মহুয়া, বন সোনালু, বক্স বাদাম, নাগেশ্বর, নাগলিঙ্গম, কনকচূড়া, বুদ্ধ নারিকেল, রকতন, টক পেয়ারা, করসাল, জায়ফল প্রভৃতি বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির গাছ।

এই অংশটি শুধু পর্যটক নয়, বিভিন্ন গবেষণাধর্মী কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ও বন গবেষণায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

মাটিরাঙার প্রকৃতিবান্ধব সংগঠন পিটাছড়া বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণের প্রতিষ্ঠাতা মাহফুজ রাসেল বলেন, এটি অসাধারণ উদ্যোগ। এখানে ১০০ প্রজাতির দেশীয় গাছ লাগানো হচ্ছে। গাছপালা বড় হলে পাখিদের জন্য তা নিরাপদ হবে।

মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রক্তিম চৌধুরী বলেন, একটা ওয়াচ টাওয়ার বসানো হবে। পর্যটকদের রাত্রিযাপনের জন্য ক্যাম্পিংয়ের পাশাপাশি রির্সোটও নির্মাণ করা হবে। বিভিন্ন গাছে সুবিধাজনক জায়গায় স্থাপন করা হয়েছে ১০০ মাটির হাড়ির পাখির বাসা। এই বাসাগুলো পাখিদের আকৃষ্ট করবে এবং নিরাপদবোধ করলে অন্যান্য পাখিও এখানে থাকবে।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের সমন্বয়ক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মানিকছড়ি ডিসি পার্কে ক্যাম্পিংকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে এখানে ইকো রিসোর্ট গড়ে তুলব। প্রাথমিকভাবে অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কীভাবে এটিকে আরো পর্যটনবান্ধব পার্ক হিসেবে গড়ে তোলা যায় সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান বলেন, মানিকছড়িতে ডিসি পার্ককে ঘিরে প্রকৃতিবান্ধব পর্যটনের উদ্যোগ নিয়েছি। পার্কে জিপলাইন, জায়ান্ট সুইং, আর্চারি পয়েন্টসহ বিভিন্ন অ্যাডভেঞ্চার অ্যাকটিভিটি চালু করার পরিকল্পনা আছে। ড্র-ব্রিজের মাধ্যমে লেকগুলোকে যুক্ত করা হবে। লেকে কায়াকিংয়ের সুবিধা রাখা হচ্ছে। ডিসি পার্ককে ঘিরে ওই এলাকার

দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মানিকছড়ির ডিসিপার্ক এখন ভ্রমনের স্পষ্ট 

আপডেট সময় : ০২:২৬:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩

খাগড়াছড়ি সংবাদদাতা: খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার বাটনাতলী ইউনিয়নের ডিসি পার্ককে ঘিরে প্রকৃতিবান্ধব পযটনের সূচনা করেছে জেলা প্রশাসন। প্রায় ১৬০ একর এলাকা বেদখলমুক্ত করে পার্কটি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রকৃতিকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

ডিসি পার্কে ২২টি টিলা ও তিনটি সুবিশাল হ্রদ পর্যটকদের মনের তৃষ্ণা মেটাবে। টিলা-হ্রদবেষ্টিত জায়গাটিতে রয়েছে রাবারের বিশাল বাগান, আম-জাম-লিচু প্রভৃতি নানান প্রজাতির উদ্ভিদ।

এখানে ভোরে এবং সন্ধ্যায় খুব সহজেই চোখে পড়ে বানরের দল, বনমোরগ। কিছুক্ষণ পরপর ডেকে উঠে, মথুরার মতো বর্ণিল পালকের পাখিসহ নানান জাতের টিয়া, শালিক, চড়ুই। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই জায়গায় রয়েছে মুগ্ধতা ছড়ানোর নানান উপাদান।

স্থানীয় সংস্কৃতি ও প্রকৃতিকে ধারণ করে নির্মাণ করা হয়েছে ট্যুরিস্ট সেন্টার ও ওয়াশ ব্লক। হ্রদের পানিতে ঘোরার জন্য নৌকা ছাড়াও পার্কের ভেতরে তাবু বাসের সুযোগও রয়েছে। নিসর্গপ্রেমীরা এখানে রাতও কাটাতে পারবেন। তাবু বাসের পাশাপাশি অরণ্য কুটির রিসোর্টেও রাত কাটানো যাবে।

পার্কের গোধূলি পয়েন্টে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্তের দৃশ্যপট দেখে মুগ্ধ হবে যে কেউ। এরই মধ্যে মানিকছড়ি ডিসি পার্কের ২০ একর জায়গাকে ‘পাখির অভয়ারণ্য’ ঘোষণা করা হয়েছে। পাখিবান্ধব গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।

এসব কারণে মানিকছড়ি ডিসি পার্ক পরিণত হয়েছে পর্যটকদের আকর্ষণে।

গত শুক্রবার ডিসি পার্কে গিয়ে দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক মানুষ বেড়াতে এসেছেন। তারা ঘুরে ঘুরে উপভোগ করছেন এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। স্মৃতি ধরে রাখতে স্বজন, বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে তুলছেন ছবি বা সেলফি।

চট্টগ্রাম থেকে সপরিবারে ডিসি পার্কে বেড়াতে এসেছেন প্রবাসী মঈন উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এখানে বেড়াতে এসে চমৎকার লাগছে। পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছি।’

কলেজছাত্র ইকবাল হোসেন বলেন, ‘এই প্রথম এখানে এসেছি। খুব ভালো লাগছে। পাহাড় আর বিভিন্ন প্রজাতির গাছ দেখে নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করছি।’

ডিসি পার্কে দেখা গেল, পাখিবান্ধব গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, পার্কের ভেতরে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠা বন্যপ্রাণী ও পাখিদের নিরাপত্তা দিতে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটিই জেলার প্রথম পাখির অভয়ারণ্য।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিসি পার্কে পরিকল্পিত উপায়ে লাগানো হচ্ছে প্রায় ১০০ প্রজাতির ২৫ হাজার গাছের চারা। ফলদ, বনজ, শোভাবর্ধক, ঔষধি ও বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ প্রজাতির চারা জোগাড় করা হয়েছে দেশের নানান প্রান্ত থেকে। ইতোমধ্যে ১০ হাজারের বেশি গাছের চারা লাগানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

পার্কে রোপন করা ফলদ গাছের মধ্যে কাগজি লেবু, জাম, পেয়ারা, কাঠাল, জলপাই, মাল্টা, জাম্বুরা, আমড়া, কদবেল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া, পাখির অভয়ারণ্যকে মাথায় রেখে রোপণ করা হচ্ছে ডেউয়া, ডুমুর, গাব, করমচা, লটকন, কামরাঙা প্রভৃতি; এই ফল গাছগুলো পাখিদের খুব পছন্দের বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

বনজ গাছের মধ্যে রয়েছে গর্জন, চিকরাশি, চাপালিশ, কাঠবাদাম প্রভৃতি। এখানে পরিকল্পিত উপায়ে লাগানো হচ্ছে কৃষ্ণচুড়া, রাধাচূড়া, জারুল, জাকারান্ডা, সোনালু, কাঞ্চন ও কদম গাছের মতো নানান শোভাবর্ধক গাছের চারা।

ডিসি পার্কে গড়ে তোলা হয়েছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম ‘ঔষধি টিলা’। এখানে দুর্লভ প্রায় ২০ প্রজাতির ঔষধি গাছ লাগানো হচ্ছে, যার মধ্যে অন্যতম- অর্জুন, আমলকি, বহেরা, হরিতকি, নিম, অশোক প্রভৃতি।

এছাড়া, প্রায় ৫ একর জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদের একটি জোন; যেখানে থাকছে রিটা, উরি আম, তমাল, কর্পুর, মান্দার, লোহা কাঠ, ওরা বাঁশ, মহুয়া, বন সোনালু, বক্স বাদাম, নাগেশ্বর, নাগলিঙ্গম, কনকচূড়া, বুদ্ধ নারিকেল, রকতন, টক পেয়ারা, করসাল, জায়ফল প্রভৃতি বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির গাছ।

এই অংশটি শুধু পর্যটক নয়, বিভিন্ন গবেষণাধর্মী কাজে ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ও বন গবেষণায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

মাটিরাঙার প্রকৃতিবান্ধব সংগঠন পিটাছড়া বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণের প্রতিষ্ঠাতা মাহফুজ রাসেল বলেন, এটি অসাধারণ উদ্যোগ। এখানে ১০০ প্রজাতির দেশীয় গাছ লাগানো হচ্ছে। গাছপালা বড় হলে পাখিদের জন্য তা নিরাপদ হবে।

মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রক্তিম চৌধুরী বলেন, একটা ওয়াচ টাওয়ার বসানো হবে। পর্যটকদের রাত্রিযাপনের জন্য ক্যাম্পিংয়ের পাশাপাশি রির্সোটও নির্মাণ করা হবে। বিভিন্ন গাছে সুবিধাজনক জায়গায় স্থাপন করা হয়েছে ১০০ মাটির হাড়ির পাখির বাসা। এই বাসাগুলো পাখিদের আকৃষ্ট করবে এবং নিরাপদবোধ করলে অন্যান্য পাখিও এখানে থাকবে।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের সমন্বয়ক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মানিকছড়ি ডিসি পার্কে ক্যাম্পিংকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে এখানে ইকো রিসোর্ট গড়ে তুলব। প্রাথমিকভাবে অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কীভাবে এটিকে আরো পর্যটনবান্ধব পার্ক হিসেবে গড়ে তোলা যায় সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান বলেন, মানিকছড়িতে ডিসি পার্ককে ঘিরে প্রকৃতিবান্ধব পর্যটনের উদ্যোগ নিয়েছি। পার্কে জিপলাইন, জায়ান্ট সুইং, আর্চারি পয়েন্টসহ বিভিন্ন অ্যাডভেঞ্চার অ্যাকটিভিটি চালু করার পরিকল্পনা আছে। ড্র-ব্রিজের মাধ্যমে লেকগুলোকে যুক্ত করা হবে। লেকে কায়াকিংয়ের সুবিধা রাখা হচ্ছে। ডিসি পার্ককে ঘিরে ওই এলাকার

দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।