সংবাদ শিরোনাম ::
শাহজাদপুরে আওয়ামীলীগের সাবেক দুই এমপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা বেলকুচিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ  শাহজাদপুরে অটোবাইক ছিনতাই চক্রের ৬ জন আটক ৭ নভেম্বর না আসলে বাংলাদেশ বিলীন হয়ে যেত: বাউবি উপাচার্য বেলকুচির সেন ভাঙ্গাবাড়ী বাজার মসজিদের নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন “জয় বাংলা” স্লোগান দেওয়ায় সাবেক পিপি-কে গণপিটুনি, পুলিশে সোপর্দ উলিপুরে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ভোট কেন্দ্র মেরামতের টাকা আত্নসাতের অভিযোগ খাজা শাহ্ এনায়েতপুরী (রহ:) এর ১১০ তম ওরছ শরীফের দাওয়াত পত্র বিতরণ  রাজশাহীর মাঠে স্পীড স্কেটিংয়ে বগুড়ার স্কেটারদের ৩টি স্বর্ণপদক সহ ৮ পদক অর্জন এনায়েতপুরে ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি উপলক্ষে আলোচনা সভা

‘জামায়াত-বিএনপির গোপন প্রেমের গল্প’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৮:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৩ ১১৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। ২০১৮’র নির্বাচনের পর থেকে জামায়াতকে দেখে মুখ লুকায় বিএনপি। ২০ দল নিষ্ক্রিয় করে এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুরুব্বিদের মন রক্ষার জন্য বিএনপি বলছে যে জামায়াতের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির তালাক হয়ে গেছে। এই বার্তাটা প্রচার করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা যারপরনাই উৎসাহী। কিন্তু জামায়াত-বিএনপির প্রেম এতই জোরালো এবং এতই শক্ত যেকোনো ঝড়েও প্রেমে ভাঙ্গন ধরে না, ফাটল পড়বে না। বরং বিএনপি এবং জামায়াতের প্রেম এখন প্রকাশ্য প্রেম থেকে পরকীয়া প্রেমে রূপান্তরিত হয়েছে।

২৮ অক্টোবর বিএনপি ঢাকায় মহাসমাবেশ ডেকেছে। ঢাকার পুলিশ কমিশনার এখন পর্যন্ত জানায়নি যে কোথায় তাদেরকে সমাবেশ করতে দিবে। তবে বিএনপি সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে’। একই দিনে জামায়াতও ঢাকায় মহাসমাবেশ করার জন্য অনুমতি চেয়েছে। বিএনপির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নেই তাহলে যেদিন বিএনপি সমাবেশ ডেকেছে সেদিন জামায়াতের সমাবেশ দেওয়ার কারণ কি? কারণ সেই পুরোনো প্রেম। জামায়াত এবং বিএনপির সম্পর্কটা এমন একটা জায়গায় আছে যেখানে দু পক্ষের কেউই এই সম্পর্ক ভাঙতে পারবে না।

লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া বলেছিলেন, জামায়াত এবং বিএনপির সম্পর্ক দুই ভাইয়ের সম্পর্ক। এই রক্তের সম্পর্ক কখনো ছিন্ন হবে না। তারেক জিয়ার এই বক্তব্যটি সর্বৈব সত্য। আর কেউ কোনো চেষ্টা করেও জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক ভাঙতে পারবে না। কারণ জামায়াত হলো বিএনপির একটি সম্প্রসারিত রূপ কিংবা অন্যভাবে বলা যায় যে জামায়াতের বৃহৎ রূপ হলো বিএনপি। কারণ বিএনপিতে যারা এখন আছেন তাদের কেউ না কেউ স্বাধীনতা বিরোধীদের নিকটজন অথবা জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কিত। আর এই কারণেই জামায়াত এখন নতুন করে আবার বিএনপির সঙ্গে রোমান্সের গল্প শুরু করেছে। সেই গল্পের সূচনা হয়েছিল বেশ কিছুদিন আগে।

জামায়াত ঠিক ১৯৯৬ সালের কৌশল অবলম্বন করছে যেখানে তারা প্রকাশ্যে মানুষের কাছে এক ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে যে তাদের সাথে সরকারের অর্থাৎ আওয়ামী লীগের গোপন সম্পর্ক হয়েছে। সম্পর্কের কারণেই তারা এখন সভা-সমাবেশ করার অনুমতি পাচ্ছে। কিন্তু গোপনে আসলে তারা বিএনপির সঙ্গে পরামর্শ করছে। তাদের লক্ষ্য দুটো। প্রথমত, তারা আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় থাকার জন্য জামায়াতকে ছাড় দিচ্ছে এমন একটি বিভ্রান্তিকর বার্তা জনগণের কাছে প্রচার করতে চায়। দ্বিতীয়ত, তারা আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকে বিএনপির যে আন্দোলন সেই আন্দোলনের সফল বাস্তবায়ন করতে চায়। আর এ কারণেই তারা এখন মাঠে নেমেছে’।

বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে যে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির কোনো প্রকাশ্য যোগাযোগ নেই বটে। তবে গোপনে বিএনপির যোগাযোগ আছে’। বিভিন্ন জেলা আছে যেখানে বিএনপি এবং জামায়াত এক এবং অভিন্ন। একই পরিবারের পিতা জামায়াত করেন, পুত্র বিএনপি করে। এরকম ঘটনা রয়েছে অন্তত আটটি জেলায় বিএনপি এবং জামায়াত যেন একই মোহনায় মিলিত হয়েছে। কাজেই সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি যে সরকার পতনের আন্দোলন করছে বিশেষ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আল্টিমেটাম দিয়েছে এর পেছনে শক্তি হিসেবে কাজ করছে জামায়াত’।

জামাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং জামায়াতকে নিয়ে গবেষণা করেন এমন অনেক বুদ্ধিজীবী মনে করেন, পৃথিবীতে আর যাই ঘটুক আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক হবে না। কারণ আওয়ামী লীগ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বকারী রাজনৈতিক দল। তার চেয়েও বড় কথা হলো আওয়ামী লীগ এই জামায়াতের নেতাদেরকে যুদ্ধাপরাধী অভিযোগে দণ্ডিত করেছে। কাজেই জামায়াতের একজন কর্মী বেঁচে থাকতেও তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো রকম সমঝোতা বা সম্পর্ক করবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগকে বিতর্কিত করা বা আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্ক আছে এমনটি দেখিয়ে জনগণের মধ্যে বিশেষ করে অসাম্প্রদায়িক শক্তিকে বিভ্রান্ত করাই জামায়াতের একটি লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই জামায়াত কাজ করছে। জামায়াতের মূল টার্গেট হলো বিএনপির বি টিম হয়ে কাজ করা এবং বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের পতন ঘটানো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

‘জামায়াত-বিএনপির গোপন প্রেমের গল্প’

আপডেট সময় : ০৭:১৮:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। ২০১৮’র নির্বাচনের পর থেকে জামায়াতকে দেখে মুখ লুকায় বিএনপি। ২০ দল নিষ্ক্রিয় করে এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুরুব্বিদের মন রক্ষার জন্য বিএনপি বলছে যে জামায়াতের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির তালাক হয়ে গেছে। এই বার্তাটা প্রচার করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা যারপরনাই উৎসাহী। কিন্তু জামায়াত-বিএনপির প্রেম এতই জোরালো এবং এতই শক্ত যেকোনো ঝড়েও প্রেমে ভাঙ্গন ধরে না, ফাটল পড়বে না। বরং বিএনপি এবং জামায়াতের প্রেম এখন প্রকাশ্য প্রেম থেকে পরকীয়া প্রেমে রূপান্তরিত হয়েছে।

২৮ অক্টোবর বিএনপি ঢাকায় মহাসমাবেশ ডেকেছে। ঢাকার পুলিশ কমিশনার এখন পর্যন্ত জানায়নি যে কোথায় তাদেরকে সমাবেশ করতে দিবে। তবে বিএনপি সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে’। একই দিনে জামায়াতও ঢাকায় মহাসমাবেশ করার জন্য অনুমতি চেয়েছে। বিএনপির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নেই তাহলে যেদিন বিএনপি সমাবেশ ডেকেছে সেদিন জামায়াতের সমাবেশ দেওয়ার কারণ কি? কারণ সেই পুরোনো প্রেম। জামায়াত এবং বিএনপির সম্পর্কটা এমন একটা জায়গায় আছে যেখানে দু পক্ষের কেউই এই সম্পর্ক ভাঙতে পারবে না।

লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া বলেছিলেন, জামায়াত এবং বিএনপির সম্পর্ক দুই ভাইয়ের সম্পর্ক। এই রক্তের সম্পর্ক কখনো ছিন্ন হবে না। তারেক জিয়ার এই বক্তব্যটি সর্বৈব সত্য। আর কেউ কোনো চেষ্টা করেও জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক ভাঙতে পারবে না। কারণ জামায়াত হলো বিএনপির একটি সম্প্রসারিত রূপ কিংবা অন্যভাবে বলা যায় যে জামায়াতের বৃহৎ রূপ হলো বিএনপি। কারণ বিএনপিতে যারা এখন আছেন তাদের কেউ না কেউ স্বাধীনতা বিরোধীদের নিকটজন অথবা জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কিত। আর এই কারণেই জামায়াত এখন নতুন করে আবার বিএনপির সঙ্গে রোমান্সের গল্প শুরু করেছে। সেই গল্পের সূচনা হয়েছিল বেশ কিছুদিন আগে।

জামায়াত ঠিক ১৯৯৬ সালের কৌশল অবলম্বন করছে যেখানে তারা প্রকাশ্যে মানুষের কাছে এক ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে যে তাদের সাথে সরকারের অর্থাৎ আওয়ামী লীগের গোপন সম্পর্ক হয়েছে। সম্পর্কের কারণেই তারা এখন সভা-সমাবেশ করার অনুমতি পাচ্ছে। কিন্তু গোপনে আসলে তারা বিএনপির সঙ্গে পরামর্শ করছে। তাদের লক্ষ্য দুটো। প্রথমত, তারা আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় থাকার জন্য জামায়াতকে ছাড় দিচ্ছে এমন একটি বিভ্রান্তিকর বার্তা জনগণের কাছে প্রচার করতে চায়। দ্বিতীয়ত, তারা আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকে বিএনপির যে আন্দোলন সেই আন্দোলনের সফল বাস্তবায়ন করতে চায়। আর এ কারণেই তারা এখন মাঠে নেমেছে’।

বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে যে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির কোনো প্রকাশ্য যোগাযোগ নেই বটে। তবে গোপনে বিএনপির যোগাযোগ আছে’। বিভিন্ন জেলা আছে যেখানে বিএনপি এবং জামায়াত এক এবং অভিন্ন। একই পরিবারের পিতা জামায়াত করেন, পুত্র বিএনপি করে। এরকম ঘটনা রয়েছে অন্তত আটটি জেলায় বিএনপি এবং জামায়াত যেন একই মোহনায় মিলিত হয়েছে। কাজেই সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি যে সরকার পতনের আন্দোলন করছে বিশেষ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আল্টিমেটাম দিয়েছে এর পেছনে শক্তি হিসেবে কাজ করছে জামায়াত’।

জামাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং জামায়াতকে নিয়ে গবেষণা করেন এমন অনেক বুদ্ধিজীবী মনে করেন, পৃথিবীতে আর যাই ঘটুক আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক হবে না। কারণ আওয়ামী লীগ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বকারী রাজনৈতিক দল। তার চেয়েও বড় কথা হলো আওয়ামী লীগ এই জামায়াতের নেতাদেরকে যুদ্ধাপরাধী অভিযোগে দণ্ডিত করেছে। কাজেই জামায়াতের একজন কর্মী বেঁচে থাকতেও তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো রকম সমঝোতা বা সম্পর্ক করবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগকে বিতর্কিত করা বা আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্ক আছে এমনটি দেখিয়ে জনগণের মধ্যে বিশেষ করে অসাম্প্রদায়িক শক্তিকে বিভ্রান্ত করাই জামায়াতের একটি লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই জামায়াত কাজ করছে। জামায়াতের মূল টার্গেট হলো বিএনপির বি টিম হয়ে কাজ করা এবং বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের পতন ঘটানো।